ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​মির্জাপুরে ৬০০ মিটার রাস্তায় দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৫-০৯-২০২৫ ০১:০৪:৫৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৫-০৯-২০২৫ ০১:২০:৫০ অপরাহ্ন
​মির্জাপুরে ৬০০ মিটার রাস্তায় দুর্ভোগ সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
মির্জাপুরের ভাওড়া ইউনিয়নের সরিষাদাইড় চরপাড়া এলাকার ৬০০ মিটার কাঁচা রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে চারটি পাড়ার লোকজন নিয়মিত চলাচল করে থাকে। বছরের ৬ মাসই তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্বাভাবিক বর্ষায় রাস্তাটি থাকে পানির নিচে। পানি কমলেই কাদা মাড়িয়ে তাদের চলতে হয়।

মির্জাপুর-কামারপাড়া সড়কের সরিষাদাইড় দক্ষিণপাড়া মসজিদের দক্ষিণ পাশ থেকে পূর্বদিকের রাস্তাটি হচ্ছে চরপাড়া। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে মির্জাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এই কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করা হয়। ৬০০ মিটার দীর্ঘ এই রাস্তা দিয়ে চরপাড়া, খানাপাড়া, হিন্দুপাড়া ও বহুরিয়া চরপাড়ার অন্তত সহস্রাধিক পরিবারের লোকজন নিয়মিত চলাচল করে থাকে। তাদের উপজেলা সদরে আসার, মুসল্লিদের মসজিদে নামাজে আসা, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। 

রাস্তাটি মির্জাপুর-কামারপাড়া সড়ক থেকে অনেক নিচু হওয়ায় একটু বৃষ্টি এবং স্বাভাবিক বর্ষায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পানি বৃদ্ধি পেলে নৌকা, কিন্তু পানি কম থাকলে নৌকা চলে না। হেঁটে যেতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ওই রাস্তায় চলাচল করে থাকে। সরিষাদাইড় গ্রামের সামাজিক কবরস্থান চরপাড়াতে হওয়ায় বর্ষাকালে লাশ দাফন করা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। কয়েক বছর আগে পুরো রাস্তাটি ইটের সলিং করার প্রকল্প দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা অর্ধেকও হয়নি। রাস্তাটি মাটি ভরাটের মাধ্যমে উঁচু করা হলে ওই এলাকার মানুষের ভোগান্তির অবসান হবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিন গেলে দেখা যায় শিশু শিক্ষার্থীরা কোমরসমান পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরছে। তারা সরিষাদাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, প্রতিদিন সকালে ছোট্ট নৌকায় করে পানি পার করে দেওয়া হয়। স্কুল ছুটির পর নৌকা থাকে না, তাই ভিজে ভিজেই পানি পার হয় তারা। এখানে কোনো খেয়া নৌকা নেই। রাস্তা খারাপ থাকার কারণে অনেক শিশু নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারে না। ফলে পড়ালেখা থেকে পিছিয়ে পড়ছে তারা।

ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করে দেখা গেছে, এলাকার যাদের নৌকা নেই, তারাও হেঁটে হেঁটে পানি পারাপার হয়ে থাকে। এ সময় কথা হয় সরিষাদাইড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, মাত্র ৬০০ মিটার রাস্তার উন্নয়ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। সরিষাদাইড় গ্রামের সামাজিক কবরস্থান চরপাড়াতে। বর্ষাকালে এই গ্রামের কেউ মারা গেলে দাফন করা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

একই এলাকার বাসিন্দা ফজলুর রহমান, আরিফ হোসেন, ইউনুছ আলী জানান, আশপাশে রাস্তাঘাটের উন্নতি হলেও সরিষাদাইড় চরপাড়ার এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত। 

সরিষাদাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব গোস্মামি বলেন, কয়েক বাড়ির বাচ্চারা বিদ্যালয়ে আসার সময় একত্র হয়ে নৌকাযোগে আসে। বাড়ি ফেরার সময় যারা নৌকা পায় না, তারা পানি মাড়িয়েই যায়। 

ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়ন কাজ করেছি। এখন প্রথম অগ্রাধিকার সরিষাদাইড় চরপাড়ার রাস্তাটি। পরবর্তী প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই রাস্তার কাজ করা হবে।’

এদিকে ওই এলাকার লোকজন এবং শিশুদের ভোগান্তির খবর পেয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম আরিফুল ইসলাম। পানি নেমে গেলে মাটি ভরাটের মাধ্যমে রাস্তাটি উঁচু করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এলাকাবাসীকে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ