ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​হাসপাতালে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অর্ধেকের বেশি ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৫ ০৫:২৩:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৫ ০৬:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন
​হাসপাতালে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অর্ধেকের বেশি ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু ​ফাইল ছবি
চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হাসপাতালে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ডেঙ্গুতে মোট ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর)  বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

দেরিতে হাসপাতালে ভর্তি, বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, “মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে যারা মারা গেছেন, তাদের বেশিরভাগই হাসপাতালে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। রোগীরা অনেক সময় দেরিতে হাসপাতালে আসছেন এবং খারাপ অবস্থায় ভর্তি হচ্ছেন। ফলে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। “প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়,” বলেন তিনি।

সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যু
সংবাদ সম্মেলনে ডা. আবু জাফর জানান, গত কয়েক দিনে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে প্রত্যাশিত। গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুনে ৮ জন, জুলাইয়ে ১৪ জন, আগস্টে ৩০ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৮৭ জন মারা গেছেন। একই সময়ে জুনে ৭৯৮ জন, জুলাইয়ে ২,৬৬৯ জন, আগস্টে ৬,৫২১ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১,৮৯৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এই তথ্য থেকে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

“বর্তমান পরিস্থিতি এবং আমাদের ব্যবস্থাপনা জনগণের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্য হলো তাদের সচেতন করা এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। জনগণ সচেতন না হলে ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন,” বলেন মহাপরিচালক।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডা. আবু জাফর বলেন, “ডেঙ্গু শুরুতেই শনাক্ত না হলে এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। অতীতে আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন। আশা করি, ভবিষ্যতেও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আমাদের পাশে থাকবেন।”

ডেঙ্গু শনাক্তে পর্যাপ্ত কিট মজুদ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু শনাক্তে ব্যবহৃত এনএস১–কিট সব জায়গায় পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পরিচালক এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করবেন।

মৃত্যুর তথ্যে বিভ্রান্তি
অধ্যাপক জাফর জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন মারা গেছেন। তবে প্রকৃতপক্ষে এর মধ্যে ৯ জনই মারা গেছেন বৃহস্পতিবার। শুক্রবার সরকারি ছুটির কারণে মৃত্যুর সঠিক তথ্য প্রকাশিত হয়নি, যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। “এটি আমাদের ব্যর্থতা বলেই মনে করি,” বলেন তিনি।

জনসচেতনতার ওপর জোর
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই রোগের প্রকোপ কমানো সম্ভব।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ