ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​আজ বাঁচা-মরার ম্যাচে টাইগাররা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৫ ১০:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৫ ১২:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন
​আজ বাঁচা-মরার ম্যাচে টাইগাররা ফাইল ছবি
এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের সামনে থাকা বাস্তবতা দুই ধরনের। প্রথম ভাগে এটি লিটন দাসদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। চার দলের গ্রুপের মধ্যে কোনো দেশ দুটি ম্যাচ হেরে গিয়ে সেরা দুইয়ের মধ্যে থাকার আকাক্সক্ষা অনেকটা আকাশ কুসুম কল্পনার মতোই। দ্বিতীয় বাস্তবতার সামঞ্জস্য রূপকথার গল্পের ফিনিক্স পাখির মতো। এই ম্যাচে দুর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে ফিরে এসে জিতে সুপার ফোর পর্বে নাম লেখানো এবং শেষমেশ চতুর্থ চেষ্টায় শিরোপাজয়ী দলের কাতারে নিজেদের নাম তোলা। যেমনটা গত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে নাকানিচুবানি হারের পর বলেছিলেন জাকের আলী। এসব সম্ভাবনাই নির্ভর করছে বাংলাদেশের মাঠের নৈপুণ্যের ওপর। আর ফরম্যাটটা যখন টি-টোয়েন্টি, সেখানে পরিসংখ্যানও পাশে দাঁড়াচ্ছে না বাংলাদেশের। আফগানদের বিপক্ষে ১২ বারের দেখায় বাংলাদেশের জয় যে মাত্র পাঁচটি, অন্য হাতে পারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে সাতবার। তাই আবুধাবিতে প্রথমবারের মতো দেখায় বাংলাদেশের ভরসা ওই ফিনিক্স পাখি, যে পোড়া ছাই থেকে জেগে ওঠে আরেকবার, তারপর করে বিশ্বজয়।

এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে নেট রানরেট বাড়িয়ে নিয়ে জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান। এবার তাদের সামনে সুযোগ গ্রুপ ‘বি’-এর শীর্ষে ওঠা। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ যেহেতু শ্রীলঙ্কার কাছে বড় হারের ধাক্কা সামলে মাঠে নামবে, তাই ম্যাচ শুরুর আগে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে থাকাটাও আফগানিস্তানের জন্য সুবিধার। নিজেদের প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে রেকর্ড গড়া পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ষষ্ঠ উইকেটে সেদিকুল্লাহ অতলের সঙ্গে গড়েন ৮২ রানের জুটি। অতল অপরাজিত ছিলেন ৭৩ রানে। আর ২০ বলে আফগানদের ইতিহাসের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি ফিফটি করার পর ২১ বলে ৫৩ রান করেন আজমত। আফগানিস্তানের বোলাররা নিজেদের সুনামের প্রতিফলন ঘটিয়ে একদমই সুযোগ দেননি রান তাড়ায় নামা হংকংয়ের ব্যাটারদের। রশিদ খানের জন্যও খুশির খবর, আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফর ও নুর আহমদ এখন আরও বেশি দায়িত্ব নিচ্ছেন। হংকংয়ের বিপক্ষে বল হাতে না দেখা গেলেও মোহাম্মদ নবিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে আক্রমণে ফেরানো হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এটি বড় পরীক্ষা, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটে আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ মোকাবিলা করা যে কতটা কঠিন তা আগেই প্রমাণিত।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরু থেকেই চাপে ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। ইনিংসের প্রথম দুটি ওভারই গিয়েছিল উইকেট মেডেন হয়ে, যা কি না আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঘটা মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের সামনে এ কীর্তি গড়েছিলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। লঙ্কানদের বিপক্ষে অমন বাজে শুরুর পর লিটন দাস আর তাওহীদ হৃদয় ইনিংস ঘুরিয়ে দিতে পারেননি। দায়িত্ব নিতে হয়েছিল জাকের আলী ও শামীম পাটোয়ারীকে। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের জুটিতে কিছুটা সম্মান বাঁচে বাংলাদেশের। বাংলাদেশের ফিল্ডিংও ছিল মানহীন। বোলাররাও ধসে পড়েছিল প্রতিপক্ষের হিসেবি ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মুখে। তাসকিন আহমেদকে বাদ দিয়ে শরিফুল ইসলামকে নেওয়ার সিদ্ধান্তও ধরা দিয়েছে নেতিবাচক হিসেবে।

এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে সবকিছু গুছিয়ে নামতে হবে বাংলাদেশকে। কারণ প্রতিপক্ষ এগিয়ে যাচ্ছে একদিকে, বাংলাদেশ যাচ্ছে অন্যদিকে। বিশেষ করে মাঝের ওভারে রান তোলায় এমনিতেই পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এর ওপর আফগানদের স্পিন আক্রমণ। সংবাদ সম্মেলনে স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদও বলেন তাই, ‘আমি চিন্তিত মাঝের দিককার ওভারগুলো নিয়ে। যদিও তিনটি সিরিজ জিতে এসেছি। এখনকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা জানি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের ব্যাটসম্যানরা যদি ১৬০-১৭০ প্লাস রান করে দিতে পারে, বোলাররা তাতে অনায়াসে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারবে।’ আর দলের সাফল্যের পিছে কোচদের দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মুশতাক, ‘কোচ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব খেলোয়াড়দের জয়ের মানসিকতা ফিরিয়ে নিয়ে আসা। আমরাও সেটাই করছি, যাতে খেলোয়াড়রা চাপ না নিয়ে উপভোগ করতে পারে।’চাপ হোক কিংবা উপভোগ, আফগানদের বিপক্ষে নিজেদের সামলে না উঠতে পারলে এশিয়া কাপের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হওয়ার আগেই হয়তো শেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশের অভিযান। ব্যাগ-পত্র গুছিয়ে জায়েদ স্টেডিয়াম থেকেই রওনা হতে হবে জায়েদ বিমানবন্দরের পথে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ