ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাতুয়াইলে সংযোগ নিয়ে অনিয়ম

বিদ্যুৎ বিভাগের চাপে পড়ে অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৩-০৯-২০২৫ ০২:৩০:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৮-০৯-২০২৫ ১২:৩২:৩৯ অপরাহ্ন
বিদ্যুৎ বিভাগের চাপে পড়ে অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন ​তদন্ত কমিটির তিন সদস্য : শ্রীবাস চন্দ্র বিশ্বাস, মোহাম্মদ শের আলী ও মো. আহসানুজ্জামান
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) মাতুয়াইল ডিভিশনের এক আবাসিক বিদ্যুৎ গ্রাহককে নিয়ম ভেঙ্গে নিম্নচাপে সংযোগ দেয়ার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক ডিপিডিসির প্ল্যানিং এন্ড ডিজাইন শাখার প্রধান প্রকৌশলী (অঃদাঃ) শ্রীবাস চন্দ্র বিশ্বাস। অন্য দুই সদস্য হলেন ডেমরা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শের আলী ও  ডেমরা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসানুজ্জামান।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠন করা হয়। 

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১১ আগস্ট, ২০২৫ তারিখ "banglascoop" অনলাইন পত্রিকায় ডিপিডিসি'র মাতুয়াইল দপ্তরের আওতাধীন গিরিধারা এলাকার মিঠু আহম্মেদের আবাসিক ভবনে "নিয়ম ভেঙ্গে নিম্নচাপ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার অভিযোগ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ, কোম্পানী অ্যাফেয়ার্স-১ অধিশাখা এর স্মারক নং ২৭.০০.০০০০.০৮৮. ২৭.০০১.২৪.৩৭৯, তারিখঃ ৩১/০৮/২০২৫ মোতাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিপিডিসি মহোদয় বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। 

প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয় যে, মাতুয়াইল দপ্তরের আওতাধীন ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার মিঠু আহম্মেদ তার নয় তলা ভবনে ৩২টি ফ্ল্যাট ও মাদার মিটারসহ ৩৩টি মিটারের জন্য ৭৬ কিলোওয়াট লোড অনুমোদন চেয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করেন। আবেদন পাওয়ার পর গত ৬ মার্চ মাতুয়াইল দপ্তর হতে গ্রাহককে নিম্নচাপ (এলটি) সংযোগের পরিবর্তে উচ্চচাপ সংযোগ নিতে চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, ওই গ্রাহক কোনোমতেই নিম্নচাপ সংযোগ পেতে পারেন না। কিন্তু তারপরও গত ২৪ এপ্রিল নিম্নচাপ সংযোগের জন্য গ্রাহককে ডিমান্ড নোট প্রদান করে মাতুয়াইল দপ্তর কর্তৃপক্ষ এবং পাঁচ লক্ষ টাকা লেনদেনের পরই ভবনটিতে নিম্নচাপ সংযোগ দেয়া হয়। 

এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হলো বলে অফিস আদেশে জানানো হয়। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ডিপিডিসির প্রকোশলীরা বলছেন, যাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে তাদের অন্তত দুজনের বিরুদ্ধে রয়েছে নানাবিধ অভিযোগ। তদন্ত প্রতিবেদন কী আসবে তা কমিটির সদস্যদের দেখেই অনুমান করা যাচ্ছে।

ডিপিডিসির একটি সূত্র জানায়, মাতুয়াইলের এতো বড় অনিয়মের ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটি কোনো কমিটি গঠন না করার পেছনে দুই নির্বাহী পরিচালকের প্রভাব ছিল। গত ৩১ আগস্ট বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দেওয়াতেই সংস্থাটি বাধ্য হয়েই এই কমিটি গঠন করেছে। মাতুয়াইলের অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে নির্বাহী পরিচালকের (অপারেশন) সঙ্গে বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছেন বলে সূত্রের দাবি। সূত্র বলছে, তদন্ত প্রতিবেদন কীভাবে করতে হবে সে বিষয়ে একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে কমিটির আহ্বায়ককে।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) মুঠোফোনে বাংলাস্কুপকে বলেন, ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে যদি কাউকে দায়ী করা, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাতুয়াইল ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন, বিষয়টি তারা অবগত আছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, প্রতিবেদন কীভাবে করতে হবে। বাকিটা আপনি বুঝে নেন।

মাতুয়াইলের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাস্কুপের প্রতিবেদকের হাতে এসেছে আরো ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য, যার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রধান কার্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা। এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন আসছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

মাতুয়াইলে বিদ্যুৎ সংযোগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ
নিয়ম ভেঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ: কর্তাব্যক্তিরা দুষছেন একে অপরকে
​ডিপোজিটের অর্থ পরিশোধের পরও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে টালবাহানা!


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ