রাকসু নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা: দফায় দফায় ধ্বস্তাধস্তি, আহত ৮
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
৩১-০৮-২০২৫ ০৪:১২:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
৩১-০৮-২০২৫ ০৯:১২:১৯ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে শাখা ছাত্রদল অবস্থান নেয়। এরপর সকাল ১০টায় ওই কার্যালয় ভাঙচুরের পর থেকে ছাত্রদল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।
এতে বহিরাগত শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে এদিন সকাল ৯টা থেকে কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে ছাত্রদল। আর সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। সোয়া ১০টার দিকে ছাত্রদলের সভাপতির সুলতান আহমেদ রাহীর নেতৃত্বে কিছু নেতাকর্মী কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে মনোনয়ন বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে বারান্দায় থাকা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ভেঙে ফেলেন এবং একটি টেবিল উল্টে দেন। এরপর ফটকে তালা মেরে দেন তারা।
এরপরই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাহ উদ্দিন আম্মার, মেহেদী সজীব, নুরুল শহীদ এবং শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। অবস্থান নেওয়ার পরে তালা খোলা নিয়ে কয়েক দফা ধস্তাধস্তি চলে দুই পক্ষের মধ্যে। এ সময় তারা তালা খুলে নিতে ছাত্রদলকে পাঁচ মিনিটের আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ে তালা না খোলায় বেলা সোয়া ১টায় কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঝোলানো তালা ভেঙে ফেলেন শিক্ষার্থীরা। তালা ভেঙে ফেলা হলেও উভয়পক্ষ ঘটনাস্থলে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ সময় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহের রহমান, মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হাসিম রানা ও সমাবেশে আসা রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মাহির এবং ছাত্রশিবিরের কর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম শহীদ, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপারসন মনিরুলসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসন নিজের খেয়াল-খুশি মতো নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছে। আমরা এর প্রতিবাদেই আজ এখানে অবস্থান নিয়েছি।
‘আমরা কোনও ভাঙচুর করিনি। টেবিলটা শুধু সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এখানে অবস্থান করবো।’
সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, ‘আজকে মনোনয়ন বিতরণের শেষ দিনে সবাই মনোনয়ন নিতে আসছেন। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে যেন মনোনয়ন বিতরণ এবং নির্বাচন সম্পন্ন হয়।’
শাখা শিবির সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘আজ মনোনয়ন উত্তোলনের শেষ দিন। তাই আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মনোনয়ন উত্তোলন করতে এসেছি। ছাত্রদল এ ক্ষেত্রে বাধা দিয়ে নির্বাচনের বিপক্ষ শক্তির পরিচয় দিয়েছে।’
এদিকে, প্রথমবর্ষের ভোটাধিকার বিষয়ে রাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যখন রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন বর্তমানে প্রথম বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না। এখন আর তাদের ভোটার করার সুযোগ নেই। তারা আগামী নির্বাচনে ভোটাধিকার পাবেন।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স