চলছে মাছ-কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞা
মানবেতর দিন কাটছে সুন্দরবনের জেলেদের
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৮-০৮-২০২৫ ০৪:৫১:৪৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৮-০৮-২০২৫ ০৪:৫১:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : সংগৃহীত
বন্যপ্রাণী এবং নদী-খালে মাছের বিচরণ ও প্রজনন কার্যক্রমের সুরক্ষায় সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশসহ নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরায় চলছে নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের সরকারি সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও বন বিভাগ ও মৎস্য অধিদফতরের সমন্বয়হীনতায় এবারও তা জোটেনি জেলেদের। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বনের ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোর দিন কাটছে অভাব-অনটনে।
গত ১ জুন থেকে তিন মাসের জন্য সুন্দরবনের নদী-খালে বন্ধ মাছ ও কাঁকড়া আহরণ। বন্ধের তিন মাস কর্মহীন বনজীবীদের পর্যায়ক্রমে ১২০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রায় শেষ হলেও কোনো সহায়তা পাননি তারা। এতে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জেলেরা।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মেটাচ্ছেন পরিবারের চাহিদা। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দায় বনজীবীদের নিতে হচ্ছে বলে জানান বন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের শেষের দিকে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ১৮ হাজার ৪০০ জন জেলের তালিকা করে নিবন্ধন এবং সহযোগিতার আওতায় আনার জন্য মৎস্য অধিদফতরে পাঠানোর কথা জানায় বন বিভাগ। তবে স্থানীয় মৎস্য অধিদফতর বলছে, জেলেদের পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা পায়নি তারা। ফলে বিষয়টি এখন পর্যন্ত মৎস্য অধিদফতর ও বন বিভাগের মধ্যে চিঠি চালাচালি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
মৎস্য অধিদফতর খুলনার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মনিরুল মামুন বলেন, জেলেদের মধ্যে কেউ কেউ সমুদ্রে যান, কেউ আবার সুন্দরবনে যান। আবার অনেকে উভয় জায়গাতেই মাছ ধরতে যান। ফলে দ্বৈততা যেনো না হয়, সে জন্য বন বিভাগের পরিপূর্ণ তালিকা পেলে এবং দুই দফতরের সমন্বয় হলে সহজেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এ বিষয়ে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, একাধিক বার আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের মাধ্যমে বেশ অগ্রগতিও হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে এটি সম্ভব না হলে বন বিভাগ নিজ উদ্যোগে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স