ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, নিহত ২৭

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৫-০৮-২০২৫ ০১:৪৫:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৫-০৮-২০২৫ ০৪:১৮:১৭ অপরাহ্ন
​পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, নিহত ২৭ সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েছে পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান (জিবি), আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজৌর জেলায়। ঘটেছে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনাও। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গে আটকা পড়েছেন তিন শতাধিক পর্যটক। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ। 

গিলগিট-বালতিস্তান সরকারের মুখপাত্র ফায়জুল্লাহ ফারাক জানান, ঘিজারের খালথি উপত্যকায় এক নারীসহ তিনজন মারা গেছেন, যেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অর্ধ ডজনেরও বেশি বাড়ি। তিনজন এখনো নিখোঁজ। উদ্ধারকারী দলগুলো অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ডায়ামের বনার এলাকায় ভাই ও বোন প্রবল স্রোতের তোড়ে ভেসে গেছে, আর বাবুসর সড়কে ভূমিধসে এক শিশু আহত হয়েছে। ঘিজারের ইয়াসিন থোই এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, পানির ট্যাংক ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসে বালতিস্তান ও সাদপাড়া সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ডায়ামের থোর ও আস্তোর উপত্যকাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।কোহিস্তানে বন্যায় করাকোরাম মহাসড়কের একটি সেতু ধ্বংস হয়ে জিবি ও দেশের বাকি অংশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করে জিবি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও রেসকিউ ১১২২–কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে গিলগিট-বালতিস্তান সরকার। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।  ফায়জুল্লাহ ফারাক বলেন, এটি গিলগিট-বালতিস্তানের জন্য কঠিন সময়। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে সরকার। এদিকে, মুজাফফরাবাদের নাসিরাবাদ তেহসিলে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে (ক্লাউডবার্স্ট)। টানা বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় এজেকের বিভিন্ন এলাকার নদীগুলো উপচে পড়েছে। বাগ জেলায় প্রবল বর্ষণে নদীর পানি উপচে পড়ে, সামাহনির ভিম্বার নালায় পর্যটকবাহী একটি গাড়ি ভেসে যায়। তবে গাড়িতে থাকা সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঝেলাম ভ্যালি, সামাহনি, হাত্তিয়ান বালা ও নীলম ভ্যালিতে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে।

নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে (এসডিএমএ) নির্দেশ দিয়েছেন এজেকে প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী আনোয়ার উল হক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং গৃহহীনদের জন্য আবাসনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জরুরি চেকপোস্ট স্থাপনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সব সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এজেকের তথ্যমন্ত্রী মাজহার সাঈদ নীলম ভ্যালির পর্যটনকেন্দ্র রাত্তি গালি থেকে এক ভিডিও বার্তায় জানান, মেঘভাঙা বৃষ্টিতে সড়কের অংশ ভেসে যাওয়ার পর সেখানে ৭০০–এরও বেশি পর্যটক আটকা পড়েছেন। এদের মধ্যে ৩০০ জনের বেশি নারী ও শিশু।   

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ