স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের খোঁজ দিলে মিলবে পুরস্কার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১০-০৮-২০২৫ ০৩:০২:২৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১০-০৮-২০২৫ ০৫:৪৪:১৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের খোঁজ দিলে পুরস্কার মিলবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আমাদের যে হাতিয়ারগুলো হারিয়ে গেছে, এগুলো উদ্ধারের জন্য আমরা একটা সার্কুলার দিচ্ছি। একটি পুরস্কারও ঘোষণা করছি। যে তথ্য দেবে তাকে আমরা কত টাকা দিতে পারি, সে বিষয়টি নিজেদের ভেতর একটা কমিটি করে আমরা দু-চার দিনের মধ্যে হয়তো মিডিয়ায় ঘোষণা দিয়ে দেবো। কেউ যদি খবর দিতে পারে সে পুরস্কার পাবে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার পতনের পর বিভিন্ন থানা-ফাঁড়িসহ পুলিশের নানান স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। গোলাবারুদ লুট হয় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদের মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, এসএমজি (স্মল মেশিনগান), এলএমজি (লাইট মেশিনগান), পিস্তল, শটগান, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, কাঁদানে গ্যাসের শেল, কাঁদানে গ্যাসের স্প্রে, সাউন্ড গ্রেনেড ও বিভিন্ন বোরের গুলি।
লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে লুট হওয়া অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা জাতি হিসেবে খুব অসহিষ্ণু হয়ে গেছি৷ আমাদের এখন কোন ধৈর্য নেই৷ আগে সমাজে কোন খারাপ কাজ ঘটলে লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়তো সেটা প্রতিহত করার জন্য৷ কিন্তু আজকাল সেটা খুব কমে গেছে৷ এখন সবাই ভিডিও করে৷ কোন অপরাধ প্রতিহত করা আমাদের ইমানী দায়িত্ব৷ কিন্তু আমাদের সমাজে কেউ এটা প্রতিহত করছে না৷ সবসময় সব জায়গায় তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকেন না৷ গাজীপুরের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক৷ এ ধরনের ঘটনা ঘটুক সমাজে কেউ চিন্তাও করতে পারে না৷কিন্তু ঘটনাটা ঘটে গেছে৷ এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বেশিরভাগকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি৷ কিন্তু যে জীবনটা চলে গেল সেই ক্ষতিপূরণ তো আর হবে না৷ সুতরাং আমরা যদি একটু ধৈর্যশীল হই তাহলে এগুলো একটু কমে৷
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় অপরাধীরা যেন ভালোভাবে শাস্তি পায় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ কিন্তু জিনিসটা খুবই দুঃখজনক৷এমন ঘটনা কিন্তু জনগণেরও প্রতিহত করার কথা৷
উপদেষ্টা বলেন, এই যে শেরপুরের ঘটনায় যে ভিডিও করছে তার নানিকে মেরে ফেলা হচ্ছে কিন্তু সে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছে আয় করার জন্য৷ আমাদের সমাজের কত বড় অবক্ষয় এটা৷ ইউটিউবের জন্য সে ভিডিও করেই যাচ্ছে৷ তার নাতিটা যদি চিল্লাইতো তাহলেও তো কেউ সাহায্য করতো৷
১১শ’ অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো দেশি অস্ত্র। এই অস্ত্রগুলো যারা বানাচ্ছে তাদের একটু কেয়ারফুল হতে হবে৷ যারা বানাচ্ছে আমরা কিন্তু তাদেরও নিয়ে আসছি৷ যারা এসব অস্ত্র বানায় তারা কিন্তু জানে এগুলো কারা ব্যবহার করছে৷ আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স