অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর
পৌনে দু'শো আন্দোলন মোকাবেলা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৮-০৮-২০২৫ ০৩:৩০:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৮-০৮-২০২৫ ০৩:৩০:১৭ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
একের পর এক দাবি দাওয়ার আন্দোলন আর বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সবচেয়ে ভুগিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। এক বছরে পৌনে দুশো আন্দোলন মোকাবিলা করতে গিয়ে রীতিমতো খাবি খেয়েছে ড. ইউনূসের প্রশাসন। আর, জনজীবনের নিরাপত্তা ইস্যুও প্রশ্নবিদ্ধ দারুণভাবে করেছে তাদের।
অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ যখন নেতৃত্ব শুন্যতায় গভীর সংকটে, তখন ৭ আগস্ট সবার আশার আলো হয়ে আসেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়ে ঠিকমতো দাঁড়াবার আগেই, তার কাছে আশা আর আবদারের ডালা নিয়ে হাজির সবাই।রিকশাচালক থেকে শিক্ষক-চিকিৎসক, বিসিএস থেকে আনসার-বিডিআর। রাজপথে প্রায় প্রতিদিনই দাবি-দাওয়ার আন্দোলন নাকাল করে তোলে সরকারকে। কখনও কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, কখনও আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন। বিচিত্র সব আন্দোলন সামলাতে ঘাম ছুটে যায় ইউনূস সরকারের। একটি সমাধান করে কোমর সোজা করতে না করতেই, হাজির হয় আরেকটি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আগে তো এ আন্দোলন করারও অধিকার ছিল না, আপনি আসলেন আন্দোলন করলেন আপনার ওপর গুলি চালিয়ে দিল। সে জায়গায় তো আমরা নেই, আমরা প্রত্যেকটা জায়গায় নিশ্চিত করেছি সবাইর যেন সমাবেশ করার স্বাধীনতা থাকে, সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা থাকে। এক বছরে পৌনে দু'শো আন্দোলন সামাল দিয়ে কিছুটা বাহবা কুড়ালেও আইনশৃঙ্খলার অবনতি সমালোচনার মুখে ফেলে সরকারকে। একের পর এক ছিনতাই-ডাকাতিতে অনেকটাই অনিরাপদ হয়ে ওঠে ঢাকা শহর। পুলিশের তথ্য বলছে, গত এক বছরে শুধু ডাকাতেই খুনের মামলা হয়েছে ৩৯৭টি, ছিতনাই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৭৩৩টি। তবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তুলনামূলক পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখার পরামর্শ সরকারের।
শফিকুল আলম আরও বলেন, আমরা মনে করি ‘ল এন্ড অর্ডার’ পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। বাংলাদেশে এখন পিস এন্ড স্ট্যাবিলিটি আছে। আপনারা আগের পরিসংখ্যান দেখেন গতবছর বা আগের বছর তার তুলনায় আমরা অনেক ভালো আছি।বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের ভেঙে পড়া মনোবল ও ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া আমলা কাঠামো ভুগিয়েছে সরকারকে। সেইসাথে, শুরুতেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পরিবর্তন ও বর্তমান উপদেষ্টার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নও কম নয়।উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি। প্রথমদিকে যেটা ছিল সেটা খারাপ ছিল। ফ্যাসিস্ট সরকারের যে লোকগুলো ছিল তারা অনেক জায়গায় এখনো আছে। তারা যদি সেখানে বসে থাকে তাহলে তো পরিবর্তন আসবে না। শিক্ষক ও গবেষক আসিফ বিন আলী বলছেন, সরকার আরও কিছু জায়গায় কাজ করতে পারতো। তার মধ্যে একটা হচ্ছে জননিরাপত্তা। জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে এ সরকার যথেষ্ট পিছিয়ে আছে। এছাড়া, দুর্ঘটনা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়ে সরকার। বিশেষ করে, মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় সমন্বয়হীনতা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার নিলিপ্ততায় সমালোচনার কুড়াতে হয় ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স