সুষ্ঠু নির্বাচনই এখন প্রধান কাজ: প্রধান উপদেষ্টা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-০৮-২০২৫ ০৩:২৭:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৮-২০২৫ ০৫:৩৬:৪২ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের শুরুতে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ কথা জানান।
তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ৫ আগস্ট তাঁদের সরকারের প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরুর আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হলো। তবে একই সময়ে সংস্কার ও বিচারের কাজ চলবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে দুটি অভিনন্দন প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে জানান শফিকুল আলম।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমানোতে ভূমিকা রাখায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে অভিনন্দন জানানো হয়। বলা হয়, শুল্ক কমানোর ক্ষেত্রে বাণিজ্য উপদেষ্টা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পাল্টা শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকেও অভিনন্দন জানানো হয় । জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে মাসব্যাপী অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করায় তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে মোট ৩১৫টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৭টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা শতাংশে ৭৮ দশমিক ৪১ ভাগ। স্বাধীনতার পর এটা যেকোনো সরকারের জন্য রেকর্ড।
শফিকুল আলম আরও বলেন, ১১ সংস্কার কমিশন যে ১২১টি আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ করেছিল, এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৬টি বাস্তবায়িত হয়েছে। ৮৫টি আশু বাস্তবায়নে প্রক্রিয়াধীন। ১০টির আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আর ১০টি বাস্তবায়ন করা যাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি কেমন চলছে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রচুর সভা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা নিজেই গত এক মাসে দুটি সভা করেছেন। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আট লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এই সংখ্যা আরও ৫০ হাজার বাড়তে পারে। সেনাবাহিনী ৬০ হাজার সদস্য দেবে বলেছে। সেখানে আরও বেশি সদস্য লাগতে পারে।
নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য কী জানতে চাইলে শফিকুল আলম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সরকারের চেষ্টা থাকবে সবচেয়ে ভালো একটি নির্বাচন উপহার দেওয়া। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন তাদের কাজ শুরু করেছে। প্রশাসন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনা। তিনি (হাসিনা) যাতে ন্যায়বিচার পান, সেটি নিশ্চিত করা হবে। আল–জাজিরা ও বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তিনি কী করেছেন। প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিশ্ববাসী এখন তা জানে। সরকার আশা করে যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সাংবাদিক জানতে চান, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামীকাল (৮ আগস্ট)। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে। এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য কী? জবাবে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আপনি যদি বিগত সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে দেখবেন, অপরাধ ও খুন কম হচ্ছে। একটা–দুইটা খুন হলেই বলা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। প্রতি মাসে অপরাধ ও খুনের চিত্র তুলে ধরতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপনারা সেখান থেকে তথ্য নেন। দেখবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কী।
আর প্রশাসন ভেঙে পড়লে গত এক বছরে এত অর্জন হতো কি না, পাল্টা প্রশ্ন রাখেন শফিকুল আলম। তিনি অর্জনের হিসাব দিতে গিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা পালানোর সময় দেশে খাদ্যের মজুত ছিল ১৮ লাখ টন। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ টনে। প্রথমবারের মতো ৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। ব্যাংক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। রিজার্ভ বাড়ছে। এসব কারা করছে? আমলাতন্ত্র করেছে। আমলাতন্ত্র ভেঙে পড়লে ছয়টি বন্যা মোকাবিলা করা সম্ভব হতো না।
এ সময় আরেক সাংবাদিক জানতে চান, পুলিশ যদি সক্রিয়ই হয়, তাহলে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামতে হলো কেন? তখন প্রেস সচিব বলেন, এ ধরনের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হয়।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর এ নিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে যোগ দিলেন।
সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি ৫ নম্বর গেট দিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়।
এর আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর তিনি সর্বশেষ সচিবালয়ে যান।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স