পিএইচডি করবে রোবট শুয়েবা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৪-০৮-২০২৫ ০৪:৪০:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-০৮-২০২৫ ০৪:৪০:৫৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
মানবাকৃতির রোবট ‘শুয়েবা ০১’ চীনের শীর্ষস্থানীয় সাংহাই থিয়েটার একাডেমিতে নাট্য ও চলচ্চিত্র বিভাগের পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে ইতিহাস গড়েছে। এটি বিশ্বের প্রথম রোবট, যাকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টরাল ডিগ্রির জন্য ভর্তি করেছে।
শুয়েবা ০১ তৈরি হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব শাংহাই ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও ড্রয়িডআপ রোবটিকসের যৌথ প্রচেষ্টায়। চীনা তরুণ সমাজে ‘শুয়েবা’ শব্দটি প্রতীক হয়ে উঠেছে সর্বোচ্চ মেধা ও পড়াশোনার জন্য, এবং এই নামেই রোবটটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এর আগে, রোবটটি আলোচনায় এসেছিল একটি হিউম্যানয়েড হাফ-ম্যারাথনে অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে। শুয়েবা ০১-এর উচ্চতা ১.৭৫ মিটার, ওজন মাত্র ৩০ কেজি। এটি সুদর্শন পুরুষ মুখাবয়বের আদলে তৈরি, যার সিলিকন ত্বক মুখের অভিব্যক্তিকে জীবন্তভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম। ম্যান্ডারিন ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলার পাশাপাশি এটি চশমা, শার্ট ও ট্রাউজার পরে থাকে, যা তাকে মানবসদৃশ করে তোলে।
২৭ জুলাই ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্সে রোবটটি পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে সে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি প্রোগ্রামে অংশ নেবে। তার গবেষণার বিষয় হচ্ছে চীনা ঐতিহ্যবাহী অপেরা, যার তত্ত্বাবধানে থাকবেন খ্যাতিমান অধ্যাপক ইয়াং ছিংছিং।
অধ্যাপক ইয়াং জানান, নাট্যকলা, মঞ্চসজ্জা, চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি রোবটটি মোশন কন্ট্রোল, ভাষা উৎপাদনসহ প্রযুক্তিনির্ভর জটিল বিষয়গুলোতেও প্রশিক্ষণ নেবে। অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে ক্লাস, রিহার্সাল ও গবেষণাকাজে অংশগ্রহণ করবে।
রোবটের এই শিক্ষাজীবন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ একে মানব-রোবট সহাবস্থানের নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখলেও, অনেকে বলছেন, শিল্পের জন্য দরকার আবেগ ও অভিজ্ঞতা, যা একটি রোবটের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়।
এছাড়া একাধিক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন—রোবটটি কি প্রকৃত ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিচ্ছে না? তবে সব সমালোচনার মাঝেও শুয়েবা ০১ নিজেকে একজন ‘এআই শিল্পী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেছে—‘আমি যদি পিএইচডি শেষ না করি, তাহলে আমাকে মিউজিয়ামে দান করে দেওয়া হবে! অন্তত ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকব।’
শুয়েবা ০১-এর পিএইচডি যাত্রা প্রযুক্তির উন্নয়ন ও শিল্পকলার নতুন দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে এনে দিয়েছে। যদিও বিতর্ক চলছেই, তবে এটুকু নিশ্চিত—এই রোবট আমাদের ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স