ঢাকা , বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ , ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়াকে দূষণমুক্ত ঘোষণার পর নেই অভয়াশ্রমের সাইনবোর্ড

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৬-০৫-২০২৬ ১২:০৩:০৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৬-০৫-২০২৬ ১২:০৩:০৭ অপরাহ্ন
কলাপাড়াকে  দূষণমুক্ত ঘোষণার পর নেই অভয়াশ্রমের সাইনবোর্ড ছবি : সংগৃহীত
জীববৈচিত্র রক্ষায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চরগঙ্গামতি সৈকতে লাল কাঁকড়া ও কচ্ছপের অভয়াশ্রম করা হয়েছিল ২০২১ সালের ৮ মে। তখন এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল । বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিস এর আওতায় ইকোফিস-২ প্রকল্পের অর্থায়নে কুয়াকাটা সৈকতের পূর্বদিকে চর গঙ্গামতি এলাকায় আধা কিলোমিটার এলাকা ও পশ্চিম পাশে তিন নদীর মোহনায় আধা কিলোমিটার এলাকা রেড জোন করে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়। 

পরিবেশ প্রতিবেশের পাশাপাশি জীববৈচিত্র রক্ষায় এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগটি কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন ও ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) যৌথভাবে এমন উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এখন এর অস্তিত্ব পর্যন্ত নেই। নেই নির্দিষ্ট বাউন্ডারি ঘেরা দৃশ্য। উধাও সাইনবোর্ড। পাঁচ বছরেই হারিয়ে গেছে জীববৈচিত্র রক্ষার প্রশংসনীয় বাস্তব সম্মত উদ্যোগ। 
আর এর ফলে সামুদ্রিক এই প্রাণিসম্পদ নির্বিচাওে মারা পড়ছে। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের দোকানের টেবিলের নিচ থেকে কচ্ছপের ১৬৩টি বাচ্চা উদ্ধার করে সাগর মোহনায় অবমুক্ত করা হয়। একইভাবে কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমে আটকে যাওয়া প্রায় ৪০ কেজি ওজনের একটা জ্যান্ত কচ্ছপ উদ্ধার শুশ্রষা করে চরবিজয়ে অবমুক্ত করা হয়। গতকালকে গঙ্গামতি সৈকতে উদ্ধার হয় আরো একটি জ্যান্ত মা কচ্ছপ। এর আগে অসংখ্য মৃত কচ্ছপ সৈকতের বেলাভূমে গত দুই বছরে ভেসে আসছে। উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপরার আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মা কচ্ছপ ডিম পারতে কিনারে এসে এভাবে মারা পড়ছে। মৃত্যু ঝুকিঁতে পরছে মা কচ্ছপগুলো কিনারে এসে। নির্দিষ্ট জোনে অভয়াশ্রম থাকলে সামুদ্রিক এই প্রাণিসম্পদ মারা পরত না বলে এই পরিবেশ সংগঠকের দাবি।

সামুদ্রিক প্রাণিসম্পদ রক্ষায় যখন লাল কাঁকড়া ও কচ্ছপের অভয়াশ্রম করা হয় ২০২১ সালে। তখন বলা হয়েছিল, কুয়াকাটা সৈকত এলাকায় লাল কাঁকড়ার বংশবৃদ্ধিসহ কচ্ছপের ডিম পারা নিশ্চিত করে পরিবেশের ভারসম্য  রক্ষায় এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ধুলাসার ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)  প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার, কলাপাড়া উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মহসিন রেজা, ইকোফিস ২ পটুয়াখালী জেলা সহকারী গবেষক সাগরিকা স্মৃতিসহ টোয়াক নেতৃবৃন্দ। এরপর থেকে ওই সংরক্ষিত এলাকায় পর্যটকবাহী কিংবা যো কোন ধরনের মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বন্ধ করা হয়েছিল শব্দদূষণ। কিন্তু এক বছর যেতেই এসব বাউন্ডারি বেড়া কিংবা সাইবোর্ড সব গায়েব হয়ে যায়। যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে এসব উদ্যোগ আর টিকেনি। এরপর থেকে ওই এলাকায় মোটরসাইকেলবাহী পর্যটকের বাধাহীন বিচরণে জীববৈচিত্র রক্ষার এমন উদ্যোগটি হারিয়ে গেছে। প্রকৃতির লালগালিচা, লালকাঁকড়ার অস্তিত্ব পর্যন্ত সংকটে পড়ে।

ইকোফিস-২ পটুয়াখালী জেলার সহকারী গবেষক সারিকা স্মৃতি তখন বলেছিলেন, অভয়াশ্রম হওয়ায় লাল কাঁকড়া ও সামুদ্রিক কচ্ছপের বংশ বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য এটি প্রকৃতির কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবে। জীববৈচিত্র রক্ষার অংশ হিসেবে  লাল কাঁকড়া ও কচ্ছপের অভয়াশ্রম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  লাল কাঁকড়া মাটির গুনগত মান বৃদ্ধি করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।  এদের প্রতি যত্নবান হওয়া আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য। কিন্তু বর্তমানে ওই সাইনবোর্ড কিংবা বাউন্ডারি কিছুই নেই। পর্যটকদের বাঁধাহীন বিচরণ সব যেন ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে এই মহতি উদ্যোগটি ভেস্তে গেল। টোয়াক প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, সরকারের যথাযথ তদারকির অভাবে পরিবেশ প্রতিবেশ জীববৈচিত্র রক্ষায় এখানকার কোন পদক্ষেপ টিকছে না। এজন্য পরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে শব্দদূষণ বন্ধে শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ